কেউ জানে না তারা কারা, কেউ জানে না আমরা কেন এখানে এসেছি। সে এলোমেলোভাবে বেছে নেয়, আর আমাদের যা করার আছে, তা হলো পালানো! মৃত্যুর দেবতার সঙ্গে বারবার প্রাণের লড়াই, প্রতিদিনই প্রার্থনা করি, একদিন যেন সেই ডায়েরির সব পৃষ্ঠা একত্রিত করতে পারি... এটি নিঃসন্দেহে এক ভয়াবহ উপন্যাস, এখানে নেই কোনো জাদুকরী কৌশল, নেই কোনো দেবতা-সম্মত শক্তি। যারা এই ধরনের গল্প পছন্দ করেন, তারা চাইলে এসে একবার দেখে নিতে পারেন।
ইউ রানের প্রতিদিন রাতে খাওয়ার অভ্যাস আছে। আজ রাতেও তার ব্যতিক্রম হলো না। কলেজ ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার উদযাপনে সে বন্ধুদের সঙ্গে কিছুটা মদ খেয়েছিল। মদ খেয়ে মাথা ঘুরতে লাগল। এক পা এগিয়ে, এক পা পিছিয়ে সে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। বাড়ির কাছে পৌঁছাতে হঠাৎ একটি গাড়ি তার শরীরের পাশ কাটিয়ে চলে গেল। গাড়ির গতি প্রায় আশি কিলোমিটার হবে বলে ধারণা করল সে।
এই ঝাপটায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। চিৎকার করতে যাবে, এমন সময় শুনতে পেল ‘ফ্যাঁট’ করে এক বিকট শব্দ। গাড়িটি সামনের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে গেল।
ইউ রান ভয়ে চমকে উঠল। মদের নেশা অর্ধেক দূর হলো। গালিগালাজ করার কথাটা গলায় আটকে গেল।
সাধারণত এমন ঘটনা দেখলে বেশিরভাগ লোক দূরে সরে যেতে চায়—ঝামেলায় জড়াতে না চাওয়ার কারণে। কিন্তু ইউ রান তা পারল না। সে অতিরিক্ত দয়ালু নয়, কিন্তু যেখানে সাহায্য করা সম্ভব, সেখানে সে পিছু হটে না।
তবে এই সিদ্ধান্তটি তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল প্রমাণিত হলো। ভবিষ্যতে যখনই সে এই ঘটনা স্মরণ করবে, তখনই সে নিজেকে অভিশাপ দেবে।
গাড়ির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল ভেতরের ব্যক্তি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। সে মাটি থেকে উঠে দাঁড়াল। গাড়ির কাছে যেতেই ভাঙা জানালার ফাঁক দিয়ে একটি হাত বেরিয়ে এল!
হঠাৎ এই নড়াচড়ায় সে ভয় পেয়ে গেল। এত বড় দুর্ঘটনায় বেঁচে আছে? নড়াচড়াও করতে পারে?
কিছুক্ষণ থেমে সে সাহস করে কাছে গেল। গাড়ির সামনের অংশ পুরো ধ্বসে গেছে। দরজা টানলেও আটকে আছে। অনেক কষ্টে সে ভেতরের ব্যক্তিটিকে জানালার ফাঁক দিয়ে বাইরে আনল। চালক একজন ত্রিশের কাছাকাছি বয়সের লোক, পরনে হালকা নীল শার্ট। দেখতে সাধারণ—ভিড়ের মধ্যে মিশে গেলে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
গাড়ি থেকে বেরিয়ে লোকটি ধন্যবাদ বা অন্য কিছু না বলে শুধু কপাল চেপে ধরল। সম্ভবত মাথায় আ